অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গ্যাস্ট্রাইটিস’য়ে আক্রান্ত হলে তেমন একটা ব্যাথা হয় না। এছাড়া ক্ষুদামন্দা, বমি করা, গা-গোলানো ভাব, বদহজম এবং অনেক ক্ষেত্রে খাওয়ার সময় পেটে ব্যাথা করা গ্যাস্ট্রাইটিস’য়ের কিছু সাধারণ উপসর্গ।
গ্যাস্ট্রাইটিস থেকে বাঁচতে কি কি খাবেন
১. হজম শক্তি ভালো না হওয়া পর্যন্ত দুধের তৈরি খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
২. প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। এক্ষেত্রে বড় গ্লাসের ৮ গ্লাস পানি পান করা উচিত।
৩. পেটের প্রদাহ কমাতে প্রতিদিন ৪০০ আই ইউ’র (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট) একটি ভিটামিন-ই ক্যাপসুল খেতে হবে।
৪. রক্তস্বল্পতার কারণে গ্যাস্ট্রাইটিস’য়ে আক্রান্ত হয়ে থাকলে সম্পূরক হিসেবে দিনে তিনবার দু’টি করে ক্লোরোফিল ক্যাপসুল খেতে হবে এবং রক্তস্বল্পতা নিরাময়ে ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলতে হবে।
৫. পরিপাক তন্ত্রের সমস্যা ভালো করতে খাওয়ার আধ ঘন্টা আগে ৩০০ থেকে ৬০০ গ্রাম যষ্টিমধু চিবান। এই ঔষধি উদ্ভিদ আলসার নিরাময়েও সহায়ক।
৬. গ্যাস্ট্রাইটিস নিরাময়ে আদা বেশ কার্যকারী। আদা বদহজম ও পেটে গ্যাস হওয়া সংক্রান্ত সমস্যাসহ গ্যাস্ট্রাইটিস’য়ের কারণে হওয়া প্রায় সব উপসর্গ ভালো করতে সাহায্য করে। এছাড়া পেট ও অভ্যন্তরীণ কোষকলা দ্রুত ভালো করতে এবং প্রদাহ কমাতে কাজ করে।
ঘরোয়া টোটকা
ভিনেগারভিনেগার হজমের সমস্যা সমাধানে ভিনেগার খুব ভালো কাজে দেয়। এর মধ্যে থাকা অ্যাসিটিক অ্যাসিড বদহজম দূর করে। এছাড়া পেটের অ্যাসিডের ভারসাম্য রক্ষা করতেও সাহায্য করে ভিনেগার। এক টেবল চামচ ভিনেগার এক গ্লাস জলে মিশিয়ে খান। অ্যাসিডিটি দূর হবে।
গুড়
আপনার বুক জ্বালাপোড়া এবং অ্যাসিডিটি থেকে তাৎক্ষণিকভাবে রেহাই দিতে পারে গুড়। বুক জ্বালাপোড়া করার সঙ্গে সঙ্গে এক টুকরো গুড় মুখে নিয়ে রাখুন। যতক্ষণ না সম্পূর্ণ গলে যায় ততক্ষণ মুখে রেখে দিন।
তবে এ সমাধান ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নয়।
লবঙ্গ
গ্যাস্ট্রিকের তাৎক্ষণিক সমাধান করবে লবঙ্গ। সমস্যা শুরু হলে দু'টি লবঙ্গ মুখে নিয়ে চিবোতে থাকুন। চুষে রসটা খেয়ে ফেলুন। দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই দূর হয়ে গেছে অ্যাসিডিটি।
তুলসী পাতা
তুলসী পাতা অ্যাসিডিটির প্রথম অব্যর্থ দাওয়াই হল তুলসী পাতা যা খুব সহজেই আমরা পেতে পারি। অ্যাসিডিটি হলে কয়েকটা পাতা ধুয়ে মুখে চিবিয়ে নিনে জল খেয়ে নিন। দিনে কয়েকবার এমন করুন। , অম্বল, বমি ভাব থেকে সহজেই মুক্তি মিলবে এর ফলে।
আদা
বুক জ্বালাপোড়া এবং অ্যাসিডিটি সমস্যা সমাধানে বেশ কার্যকর আদা। প্রতিবার খাবার খাওয়ার আধঘণ্টা আগে ছোট এক টুকরো আদা কাঁচা চিবিয়ে খান, দেখবেন গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা একেবারেই থাকবে না।
পুদিনা পাতা
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করতে সেই প্রাচীনকাল থেকেই পুদিনা পাতার রস ব্যবহার হয়ে আসছে। প্রতিদিন পুদিনা পাতার রস বা পাতা চিবিয়ে খেলে অ্যাসিডিটি ও গ্যাস্ট্রিক থেকে মুক্তি পাবেন।
জিরে
জল জিরের মধ্যে এমন উপাদান আছে যা মুখে লালা বাড়িয়ে দেয় যা আদতে খাবার হজম করতে সাহায্য করে। জিরে দেওয়া জল ফুটিয়ে তা ঠান্ডা করে খান। গ্যাস, অ্যাসিডিটি, বুক জ্বালা কমে যাবে।
ঠান্ডা দুধ
অ্যাসিডিটিতে বুক জ্বালা, পেট ব্যথা হলে ঠান্ডা দুধ খুব কাজে দেয়। দুধে থাকে ক্যালসিয়াম যা অ্যাসিডিটিকে শুষে নেয়। এছাড়া এতে থাকে ল্যাকটিক অ্যাসিড যা পেটে অ্যাসিডের সমতা বজায় রাখে। তবে ফল পেতে হলে চিনি ছাড়া দুধ খেতে হবে আপনাকে।

কোন মন্তব্য নেই